Monday, May 9, 2022

অবাধ্য


সময় তো ঠিক করাই ছিল
সময় তো ঠিক করাই আছে, সব কিছুর জন্য
আঁজলা ধরে জল খাবো বুনো ঝর্ণার জলে
শাল পাতার ফাঁকে আলো আঁধারি খেলব
পায়ের পাতা ভিজিয়ে যাবে
শাপলা ফুলের সুবাস, ওই ঘাসে মুখ লুকবো
দণ্ডকলস ফুলের মধু খাবো আনমনা হয়ে
সময় নিয়ে বসে আছি সাঁকোর রেলিং ধরে
সূর্যাস্ত দেখব বলে
সাইকেলের ট্রিং ট্রিং বেল বাজাবো ভুলভাল
গগন মাঝি বয়ে নিয়ে যাবে তাঁর পাল তোলা নৌকো
ঢেউয়ের দোলায় মিশে যাবে তাঁর ছেলের গান
মন কেমনের দেশে
কোন একদিন হঠাৎ কোথাও দেখা হবে
বৈশ্যম্পায়নের সাথে, আমার ছেলেবেলার বন্ধু
ছাব্বিশ বছর দেখা হয়নি আমাদের, কত গল্প পড়ে
আছে, কত পাতার লেখা, কত বৃষ্টির ঝম ঝম
ট্রয় ট্রেনের বাতাসিয়া লুপ আর ঘুম এর মেঘদল
হন্যে হয়ে খুঁজব মালিনী পিসিকে , এ শহর
থেকে ও শহর, এ দৃশ্য থেকে ও দৃশ্য , এ জীবন
থেকে ও জীবন , আজীবন … আমার বয়ঃসন্ধির
ভীরু রাত দেব, জুতোর সুকতলা ক্ষয়ে যাবে,
খালি পায়ে হাঁটব উদ্দাম আর জিরিয়ে নেব আলপথে
সময় তো ঠিক করাই ছিল
সময় তো ঠিক করাই থাকে
থাকুক, এসো, আজ বরং অসময়ের বৃষ্টি হই
সময় তো ঠিক করাই ছিল
সময় তো ঠিক করাই থাকে
বাধ্য হয়ে থাকব না আর, অবাধ্য হতে ক্ষতি তো নেই
২৩ ডিসেম্বর ২০২১

Monday, January 14, 2019

এক্কা দোক্কা সহজপাঠ

আলপথ ধরে দৌড়তে দৌড়তে ছুটে আসা …
কড়াইশুটির মাঠ ধরে, দিগন্তের ওপার থেকে
ছুটে আসা…সে এক অবুঝ বালক… পায়ে
মোজা নেই, মাথায় শীতের টুপি নেই…
সোমবারের হাট থেকে কিনে আনা গরম জামা
কমদামি ফ্লানেলের কাপড়; ডোরাকাটা
শীতের শিশিরভেজা পায়ে লেগে থাকা মাটি
অগ্রাহ্য করে ছুটে আসা ধেয়ে … কোথাও কোনও
লোকজন নেই, কেউ কোথাও নেই… শুধু পথের
পড়ে থাকা খোলাম কুচি, দূর্বাদল … আলপথ বেয়ে
নেমে আসা নতুন ধানের শীষ আর সকালের প্রথম রোদ্দুর
সারারাত জেগে থাকা সবজির মাঠ …আলু কপি পালংয়ের ক্ষেত…
শীতের ঠান্ডা হিমে থরথর তবুও অবাধ্য ছুটে আসা,
খেজুরগাছ, তুমি কেন আটকাওনি তাকে

সে সব স্বপ্ন ছিল, সে সব আগেকার দিন…
ঘুমভাঙা চোখে জবুথবু ডুবে যাওয়া… ঠান্ডা জলে স্নান
কাঁচা হলুদ বেঁটে গায়ে মাখা… শ্রীপঞ্চমী সকালে
এটাই রীতি নাকি, দূর্বিনীত ফরসা হওয়ার লোভে…
বড়জেঠিমার গাঁদাফুল… লাউয়ের মাচা আর বোরো ক্যালেনডুলা
কী যেন বাকি পড়ে আছে ফেলে আসা রাস্তায়…
ভীরু ভীরু মনে পদস্খলন … উঁকি দিয়ে দেখা শাড়িপরা মেয়েদের
রাতভোর জেগে থাকা স্বপ্নেরা, ও পলাশ ও কৃষ্ণচূড়া …
তোমাদের যৌথ দৃষ্টিপাত … তোমাদের কুয়াশায় ভেসে যাওয়া
চড়কের মাঠ, দিন শেষে পড়ে পাওয়া অনামি বাঁশি
তারাখসা আর বড় ব্যস্ত উল্কারা… সবাই দেখেছে তোমাদের
সবাই জানে তুমি কেন লজ্জায় লাল হয়ে যাও
সবাই বুঝেছে কে হয় অই অবাধ্য বালক তোমার আর
কী কথা চুপিচুপি রেখে যাও তুমি আলপথে…


মনে মনে আমি সেই, মনে মনে অবুঝ বালক
ও কৃষ্ণচূড়া মেয়ে, তোমার জন্য রেখে যাই আদিগন্ত কবিতার মাঠ
কুয়াশারভেজা ভোর, শীতের আলপথে হেঁটে যাই আমি
আমাদের প্রাথমিক প্রেম, আমাদের একাকার এক্কা দোক্কা সহজপাঠ

সূর্যাস্ত নামক স্বগত


স্বপ্ন হয়ে এলি সেদিন ঘুমের ঘোরে
সেই আগের মতই, কপালে আলতো
                                 কয়েকটা ছোট চুল
নাকের ওপর হালকা একটু ঘাম,
                                চোখে বড়ই ব্যস্ততা
আমি তখন সাঁকোর রেলিঙের ধারে দাঁড়িয়ে
একটা গভীর সূর্যাস্তের জন্য অপেক্ষা করছি



ব্যস্ত ভাবেই হাত রাখলি কাঁধের ওপর
“আচ্ছা আপনি বুঝি আর লেখেন না?”
চমকে পিছন ফিরে তাকাতেই
তোর কপালের মস্ত লাল টিপে চোখ আটকালো
যেন একটা প্রতিবিম্ব - সূর্যাস্তেরই হবে


একটা খেয়া পারাপার করছিল সাঁঝবিকেলে
দূর থেকে ভেসে আসছিল আপনমনে গুনগুন
আমি ভাবলাম পাখি হবে হয়ত, ঘরে ফেরার পালা
তুই বললি চলুন, দেরি হয়ে যাচ্ছে, সর্বনাশের খেলা
যেন সূর্যাস্ত নয়, এক গভীর ডুবে যাওয়ার আগে
তীব্রভাবে আঁকড়ে ধরা, রক্তিম আলো মাখামাখি
                                                                 সর্বাঙ্গে


অথচ বেশ তো ভালই চলছিল, তীরের এপার
                                                        আর ওপার
ভয়ে ভয়ে চোখ রাখা, ডুবে যাওয়া, ভেসে ওঠা
যেন এক অস্থির শুশুক, আর অপার বিস্ময়
হেঁটে যাওয়া অনন্তকাল, সাঁকোর ওপর, ট্রাপিজের খেলা
সমাজ সংসার মিলে মিশে একাকার, আত্মকথন


কেউ কোথাও নেই, মানুষজন, গাছপাথর আর উল্কা বৃষ্টি
স্বপ্ন হয়ে এলি সেদিন ঘুমের ঘরে, শেষ দেখা হল না
                                                     স্বপ্নই থেকে গেলি

Tuesday, May 13, 2008

স্বপ্নাদেশ

এক একটা সময় স্বপ্ন মনে হয় য়েন
এক একটা সময় ছুটে যাই গ্রহ নক্ষত্র পেরিয়ে
আর একটা জগতে, এক একটা সময় কিছু মহাজাগতিক রশ্মি
আমার পিছু নেয়,আমি তাদের আলতো করে ছুঁইয়ে দিয়ে ভেসে যাই
অপ্রতিহত একটা ভেসে যাওয়া, আর ডুবে যাওয়া,
ভেসে যাওয়া ঘন কুয়াশা আর শীতের মধ্যে


এক একটা সময় দেখা হয়ে যায়
আমার পরিচিত শিউলি ফুলেদের সাথে
একটা তীব্র অনুভুতি আমাদের ছুঁয়ে যায় আদিগন্ত, শরতই হবে
ণয়তো এরকম পাগলকরা বাতাস কেন ভুলিয়ে দেয় বৈশাখ


আজ রাতে বৃষ্টি হয়েছে ঝরঝর
আজ রাতে আমার টবের গাছগুলি হেসেছে অফুরান
ঠান্ডার চাদর গায়ে দিয়ে দুজনে কথা বলেছে সারারাত
আমি কান পেতে শুনেছি ওদের বলাবলি, চুপিসারে দেখেছি নতুন পাতার উঁকি দেওয়া
আজ রাতে বৃষ্টি হয়েছে ঝিরঝির
আজ রাতে ভিজিয়ে গেছে আমার শত বছরের ভেজা

স্বপ্নই হবে হয়ত, স্বপ্নই মনে হয়
এক একটা সময় স্বপ্নাদেশ পাই আমি আর ভুলে যাই স্থান কাল পাত্র
এক একটা সময় ওই সাদা দাড়ি বুড়ো আমায় ভুলিয়ে দেয় সব
তাড়িয়ে বেড়ায় একটা লেখার তাগিদে
এক একটা সময় ঘুম ভেঙ্গে উঠে দেখি কেউ কোথাও নেই,
হতভম্ব আমি লিখে একা যাই


তুচ্ছ কিছু সুখ দুঃখ, বৃষ্টি, নতুন পাতারা আর শিউলি
ঠিক করি লিখব না আজ, তাঁর জন্য সব তোলা থাক
ঘুম ভেঙ্গে উঠে আমি জানি প্রতীক্ষিত বাতাস
ঘুম ভেঙ্গে উঠে আজ পঁচিশে বৈশাখ…